খালিশপুরে রেল লাইনের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ অভিযান স্থগিত


নগরীর খালিশপুরে রেললাইনের পাশে গড়ে ওঠা অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ অভিযান শুরুর আধা ঘন্টা পর স্থগিত করা হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার সকালে খালিশপুর জংশন এলাকা থেকে তিন ডিপো পর্যন্ত এই অভিযান পরিচালনার কথা থাকলেও জংশন ও আলমনগর বাজারে এসে স্থগিত করা হয় উচ্ছেদ অভিযান। রেলওয়ের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা বলছেন, স্থানীয় কাউন্সিলরদের অনুরোধে এই অভিযান স্থগিত করা হয়েছে। তবে ট্রেন চলাচলে বিঘœ না ঘটে এ জন্য দুই পাশের স্থাপনা নিজেরাই সরিয়ে নিবেন এমন আশ্বাসে স্থগিত করা হয়। 
এদিকে এই অভিযান স্থগিত হওয়ায় অনেকেই আক্ষেপ প্রকাশ করে বলেছেন, স্থানীয় প্রভাবশালী ও উপকারভোগীদের কারণে রেলওয়ের এই উচ্ছেদ অভিযান বারবার স্থগিত হচ্ছে। এর আগে খুলনা সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের পূর্বে অভিযান স্থগিত করা হয়। এতে দুর্ঘটনার শঙ্কা থেকেই যাচ্ছে। 
সরেজমিনে দেখা যায়, পলিটেকনিক মোড়ের বিপরীতে রেললাইনের পাশে একটি হোটেল ও একটি স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়েছে। তবে তার পাশে থাকা অনেক দোকান ঘর উচ্ছেদ করেনি রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ। এছাড়া আলমনগর বাজার এলাকায় রেললাইনের পাশেও অবৈধ স্থাপনা সরিয়ে নেয়া হচ্ছে। তবে তাও ছিল গুটি কয়েক। এই অবস্থায় স্থগিত করা হয় উচ্ছেদ অভিযান। ভুক্তভোগী কয়েকজন বলেন, আমাদের তো আর টাকা নেই, এ জন্য গরীবেরটা আগে ভেঙে ফেলা হয়েছে। অথচ পাশেই অনেক পাকা ঘর রয়েছে যা ভাঙা হচ্ছে না।  
খুলনা রেলওয়ের কানোনগো মোঃ জিয়াউল হক বলেন, খালিশপুর গাবতলা থেকে পদ্মা-মেঘনা-যমুনা তেল ডিপো পর্যন্ত অবৈধ স্থাপনার কারণে তেলের ওয়াগন চলাচলে অসুবিধা হচ্ছে। এজন্য উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা মোতাবেক গতকাল সকালে অভিযান শুরু করা হয়। পরে কি কারণে স্থগিত করা হয়েছে সেটি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ বলতে পারবেন। 
রেলওয়ের সহকারী প্রকৌশলী বিরবল মন্ডল বলেন, গতকাল খালিশপুরে রেল লাইনের দুই পাশের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনার জন্য যাওয়া হয়। তবে আধা ঘন্টা অভিযান পরিচালনার পরে স্থানীয় কাউন্সিলরদের অনুরোধে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ অভিযান স্থগিত করেন।   
রেলওয়ের ডিভিশনাল এস্টেট অফিসার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ ইউনুস আলী বলেন, ওই এলাকার লোকজন নিজেরাই স্থাপনা সরিয়ে নেবেন এই মর্মে স্থানীয় কাউন্সিলররা অনুরোধ করলে উচ্ছেদ অভিযান স্থগিত করা হয়। তারা তিন দিনের মধ্যে স্থাপনা সরিয়ে নেবে বলে জানিয়েছেন। 

No comments

Powered by Blogger.